| শিরোনাম: |

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জামায়াত একটি মুনাফিক দল। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে দেশের ধর্মভীরু মানুষদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং ধর্মের নামে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছে।
বুধবার সন্ধ্যার পর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথমবার সিরাজগঞ্জে এসে শহরের ট্রাক টার্মিনালে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জামায়াতকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছিলেন। অথচ আজ সেই জামায়াত বিএনপিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। তারা আলবদর ও আল শামস নামে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছিল এবং লাখো মানুষকে হত্যা করেছিল। কিন্তু আজও তারা ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করছে।
টুকু বলেন, জামায়াতের আমির সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, গণভোট না হলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। তবে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা তালিমের নামে মানুষকে প্রলোভন দেখাচ্ছে। তাই জনগণ, বিশেষ করে নারী ও কিশোররা, তাদের মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।
টুকু আরও বলেন, আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, যুদ্ধ শেষে ক্ষমতার জন্য লড়াই করিনি। যুদ্ধ শেষে আমরা আবার ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়েছিলাম। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন দেশের মানুষ স্লোগান দিয়েছিল, “আর খাব না, আটার জাই নৌকা মার্কায় ভোট নাই।”
বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রসঙ্গে টুকু বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমার ওপর আস্থা রেখেছেন দুটি কারণে—এক, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা; দুই, দেশের মানুষের সেবা করা। আমি উভয় দায়িত্বই পালন করব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় ও লড়াকু দল। গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপিকে নির্যাতন করেছে, তাতেও বিএনপিকে শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই কেউ বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারবে না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, শহর বিএনপির সভাপতি সেলিম ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জাহিদ আলমসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ