প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৪৯ পিএম আপডেট: ১২.১১.২০২৫ ৮:৩৩ PM

ঘুঘু শিকার করে ফেসবুক লাইভে রান্না ও ভোজন, যুবকের অর্থদন্ড
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২০টি ঘুঘু ও শালিক পাখি শিকারের পর ফেসবুক লাইভে রান্না করে ভোজনের দায়ে বায়েজিদ আমীন (২৭) নামের এক যুবককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলীপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক।
এসময় কলাপাড়া বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোসারেফ হোসেন ও এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের জন্য স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল। এর আগে মঙ্গলবার রাত দুইটায় ওই যুবক বন্ধুদের নিয়ে ফেসবুকে লাইভে এসে পাখিগুলো রান্না করেন।
এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার টিমের সদস্যরা বলেন, ‘‘ঘুঘু ও শালিক রান্না করে ফেসবুক লাইভে দাওয়াত করছেন আমীন। আমরা বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকে অবহিত করেছি। পরে স্যার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।’’
তারা আরও বলেন, ‘‘২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে এসব পাখি শিকার, হত্যা, আটক ও ক্রয়-বিক্রয় দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।’’
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন, ‘‘এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যদের মাধ্যমে খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে এক যুবককে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে সে অর্থ পরিশোধ করে পাখি শিকার করবেনা মর্মে মুচলেখা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে এসব পাখি শিকার, হত্যা, আটক ও ক্রয়-বিক্রয় দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ভবিষ্যতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’