প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সোনিয়া সুলতানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর মির্জাপুর এলাকার ইসলাম টাওয়ারে নিজ ফ্ল্যাটের সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে চারটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও সেখানে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না, তবু কয়েকটিতে হতাশার কথা লেখা ছিল। একটি চিরকুটে মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধও ছিল।
একমাত্র কন্যার মৃত্যুতে শোকে পাথর তার মা-বাবা। মা সেতারা বেগম সেতু জানান, সকালে মেয়েকে ডাকতে গিয়ে তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি নামিয়ে আনে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সোনিয়ার বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল এবং বরপক্ষ তাকে আংটি পরিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিয়ে ভেঙে যায়।
সহপাঠীরা জানান, সোনিয়া ছিলেন প্রাণবন্ত ও মেধাবী শিক্ষার্থী। মঙ্গলবারই তিনি স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ভাইভা পরীক্ষা দেন এবং তখনও স্বাভাবিক ছিলেন। তারা আরও জানান, সোনিয়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু পরিবারের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় সে ইচ্ছে পূরণ করা তার পক্ষে কঠিন ছিল।
সহপাঠী ও স্বজনদের দাবি, সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে হতাশায় ভুগছিলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়ার বাবা শামসুল হক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরিরত ছিলেন এবং অবসরে গেছেন কয়েক বছর আগে। কয়েক বছর আগে তার একমাত্র ছেলে মারা যান। এবার মেয়েকেও হারিয়ে নিঃসন্তান হলেন এই দম্পতি।