প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৩ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মুখে ‘নাপা সেন্টার’ নামে পরিচিত ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সেখান থেকে প্রায় একমাত্র নাপা ট্যাবলেটই সরবরাহ করা হতো। তবে অবশেষে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এখন মেডিকেল সেন্টার নতুন রূপে সাজছে ওষুধের বৈচিত্র্য বেড়েছে, স্বচ্ছতা ফিরছে ক্রয় প্রক্রিয়ায়।
জানা গেছে, প্রতিবছর মেডিকেল সেন্টারের জন্য ২৪ লাখ টাকার ওষুধ ক্রয়ের বাজেট থাকে, যা চার ধাপে ভাগ করে ব্যয় করা হয়। আগে এই বাজেটের দায়িত্ব ছিল চিফ মেডিকেল অফিসার (CMO)-এর হাতে, এবং তাতে মাত্র ২০–৩০ প্রকার ওষুধ কেনা হতো।
বর্তমানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে একটি নতুন ঔষধ ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে জাকসু প্রতিনিধিরা উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, রেসপিরেটরি ওষুধ, ডায়রিয়া ও স্যালাইনসহ আরও অনেক ওষুধ যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। ফলস্বরূপ, একই বাজেটে যেখানে আগে ২০–৩০ ধরনের ওষুধ কেনা হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ প্রকারে।
প্রথম ধাপে ৬ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ লাখ ২১ হাজার টাকার ৫৩ প্রকার ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকার ৩২ প্রকার ওষুধও খুব শিগগিরই আসবে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে পাওয়া যাচ্ছে ১১ প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক, ৯ প্রকার ব্যথানাশক, ৬ প্রকার শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত ওষুধ, ৫ প্রকার গ্যাস্ট্রিক ও বমি প্রতিরোধক, ৪ প্রকার স্যালাইন, ৩ প্রকার স্টেরয়েড, খিঁচুনি প্রতিরোধক ও মানসিক রোগের ওষুধসহ নানা শ্রেণির মেডিসিন। উল্লেখযোগ্যভাবে এবার প্রথমবারের মতো টিটেনাস ও র্যাবিস ভ্যাকসিনও যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদের উদ্যোগে JMI Syringes and Medical Devices Ltd. কোম্পানি মেডিকেল সেন্টারকে উপহার হিসেবে দিয়েছে ২০০০ পিস ৩ml সিরিঞ্জ, ১০০০ পিস ৫ml সিরিঞ্জ এবং ২৮০ পিস IV সেট।
জাকসু স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল সেন্টার ছিল ‘নাপা সেন্টার’ যেখানে সীমিতসংখ্যক ওষুধই পাওয়া যেত। এখন পরিস্থিতি বদলেছে, স্বচ্ছতা এসেছে। আমরা চাই এই পরিবর্তন স্থায়ী হোক এবং অতীতের দুর্নীতির পূর্ণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।”