প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ AM

সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলার সরকার ও সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণের সম্ভাব্যতায় গেরিলা-ধাঁচের প্রতিরোধ কৌশল তৈরি করছে এবং দেশজুড়ে পুরনো রুশ অস্ত্র-সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে, এমনটি জানিয়েছে রয়টার্সে প্রকাশিত উত্সস্বরূপ নথি ও সূত্র।
সূত্র বলছে, মাদুরো প্রশাসন এই পরিকল্পনাকে “দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ” হিসেবে উল্লেখ করছে। নথিতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে ২৮০টির বেশি ছোট ইউনিট গঠন করে সেগুলিকে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে—আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে গেরিলা পন্থায় লড়াইয়ের কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোপনভাবে “অরাজকতা সৃষ্টি” বা ‘anarchization’ নামের আরেকটি পরিকল্পনা আছে, যেখানে গোয়েন্দা এজেন্সি ও ক্ষমতাসীন পক্ষের সশস্ত্র সমর্থকদের মাধ্যমে বড় শহরগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী সামগ্রিকভাবে আধুনিকায়নহীন এবং অপুষ্টির শিকার; অনেক ইউনিটই মজাদার সমস্যা ও সরবরাহ ঘাটতির সম্মুখীন। সশস্ত্র সদস্যদের বেতনও এতই কম যে একজন সাধারণ সৈন্যের মাসিক আয় প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার মাত্র—যা ন্যূনতম খাদ্যচাহিদার অর্ধেকও পুরো করতে পারে না—ফলে বড় মাপের সংঘাতে বাহিনীর দৃঢ়তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
অস্ত্রভাণ্ডারের বিষয়ে সূত্রগুলো বলছে, বহু অস্ত্রই সময়ের সঙ্গে পুরনো হয়ে পড়েছে; সোভিয়েত/রুশ যুগের কিছু যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাংক, হেলিকপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র র্যাংক-অফও রয়েছে। মাদুরো সরকার বিরুদ্ধে দিবে—এমন আশঙ্কা মোকাবেলায় বরং হাতে থাকা রুশ মানপ্যাডস (আইগলা ধরনের) ও অন্যান্য পুরনো সিস্টেমগুলোকে মোতায়েন করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে; যদিও বাস্তবে এসব যন্ত্রপাতি কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েইছে।
রাশিয়া ভেনেজুয়েলার অনুরোধে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে — তবে একই সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর আহ্বানও এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোর এই প্রস্তুতি হয়তো প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং একটি নিরাপত্তা-সন্দেশ: যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা করে, তাহলে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। অর্থাৎ এটি মূলত র deterrence বা “সহিংসতা দিয়ে দমাও” কৌশলের অংশ হতে পারে।
মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক একাধিক পদক্ষেপ দেখা গেছে — এ উত্তেজনার মাঝে উপরের কৌশলগুলোর খবর ও পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবল উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সের রিপোর্ট ভিত্তিক এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল তথ্যসূত্রগুলো আন্তরিকভাবে যাচাই করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স