প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৩ পিএম

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, এবং একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃত ব্যক্তিটি ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার সময় নাকি পুঠিয়ায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অসুস্থ অবস্থায় তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং কয়েকদিন পর মারা যান।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে যাদের অবস্থা গুরুতর ছিল, তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌর এলাকায় মাঝে মাঝে ফগার মেশিনে স্প্রে দেওয়া হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম প্রায় অনুপস্থিত। ফলে মশার প্রজনন বেড়ে যাচ্ছে।
জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের এক নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর পরিবার জানায়, তিনি গত দুই বছর কোথাও যাননি। একইভাবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের আরেক নারীও আক্রান্ত হয়েছেন, যিনি পাঁচ বছর ধরে উপজেলার বাইরে যাননি।
স্থানীয়দের দাবি, অনেকে সামাজিক লজ্জার ভয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখছেন। এতে প্রকৃত সংক্রমণের হার জানা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সূচনা মনোহরা বলেন, “আমরা এখন অনেক বেশি সচেতন। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু টেস্ট কিট রয়েছে। আগে কিছু ফি দিতে হতো, এখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও অনেকে চিকিৎসা নিতে আসছেন।”
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, “সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম. রাজিউল করিম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে