
প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। ভোরের শিশির, হালকা কুয়াশা আর শীতল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। সন্ধ্যা নামতেই আখাউড়ার বাতাসে বইছে শীতের পরশ। ফলে শীত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। আর সেই সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশক তৈরির কারিগররা।
গত কয়েক দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আবহাওয়ায় শীতের ছোঁয়া স্পষ্ট। দিন গরম থাকলেও রাতের দিকে ঠান্ডা পড়ছে বেশ। পাতলা কাঁথা আর মানছে না, তাই অনেকে পরিবারের জন্য নতুন লেপ-তোশক বানাচ্ছেন।
এ সুযোগে পৌর শহরের হাট-বাজারে লেপ-তোশক কারিগর ও বিক্রেতারা কাজের চাপে সময় পার করছেন। কেউ পুরনো লেপ-তোশক মেরামত করছেন, কেউ বা নতুন তুলা দিয়ে নতুন করে বানাচ্ছেন।
তবে তুলা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে তৈরির খরচ ও কারিগরদের মজুরি। কারিগরদের কাছ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি শিমুল তুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়, কার্পাস তুলা ১৮০-২২০ টাকায়, বোমা তুলা ১২০-১৩০ টাকায়, চায়না তুলা ৯০-১১০ টাকায়, কালো হুল ৯০-১১০ টাকায় এবং কালো রাবিশ ৭০-৮০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি তুলার দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
লেপ-তোশক দোকান মালিক মো. কামাল মিয়া বলেন, “এ বছর শীত আসার আগেই ভালো অর্ডার পাচ্ছি। বিক্রিও ভালো চলছে। শীত বাড়লে চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
আরেক ব্যবসায়ী মো. আলম জানান, “তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় লেপ-তোশক তৈরির খরচও বেড়েছে। ভালো মানের একটি লেপ বা তোশক তৈরিতে এখন ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। শীত যত বাড়ছে, অর্ডার তত বাড়ছে।”
কারিগর মো. আলম আরও বলেন, “শীত পুরোপুরি পড়েনি, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে কাজের চাপ বেড়েছে। কেউ পুরনো লেপ বানাচ্ছেন, কেউ নতুন লেপ-তোশক অর্ডার দিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার কাজ অনেক বেশি।”
পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ুন মিয়া বলেন, “শেষ রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। তাই আগে থেকেই লেপ-তোশক বানানোর অর্ডার দিয়েছি। তবে তুলা ও মজুরি অনেক বেড়েছে।”
আরেক ক্রেতা মো. রিপন মিয়া জানান, “ছেলে হোস্টেলে থাকে, তাই তার জন্য লেপ কিনতে এসেছি। গত বছর ১,৫০০ টাকায় লেপ পেয়েছিলাম, এখন একই মানের লেপের দাম ২,০০০ টাকা।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে