প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২৯ পিএম

ঘরের আঙিনার পাশেই ছিল পায়রা নদীর তীরে বন্যা রক্ষা বাঁধ, তাও বিলীন হয়ে গেছে। সামান্য জোয়ার ভাটার পানির সাথেই লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় প্রতিনিয়ত। হয়তো বড় একটা ঢেউ আসলেই তাদেরকে ডুবিয়ে দিয়ে যাবে। তারপরও সরকার হয়তো তাদের একটা সমাধান করে দিবে তাই তো আশা বেঁধে বসে আছেন তীরবর্তী মানুষ।
১৭ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল রাজিয়া আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই প্রতিবছর তিন থেকে চার বার নতুন করে রান্নার জন্য চুলা তৈরি করতে হয় তাকে। এখন পর্যন্ত সাতবার নতুন করে বসত ঘর তৈরি করেছেন তিনি। এখন আর তাদের যাওয়ার মত কোন জায়গা নেই, মৃত্যু হলেও এখানেই হবে সোমবার দুপুরের প্রতিবেদকের সাথে দুঃখে ভরা মনে এমনটাই বলছিলেন তিনি।
রাজিয়া আক্তারের মত এই অঞ্চলে নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের। যেকোনো সময় লন্ডভন্ড করে দিয়ে যেতে পারে তাদের সর্বশেষ আশ্রয়ের ঘরখানিকে। দফায় দফায় ভাঙ্গনে এখন সর্বশেষ আশ্রয় এই ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। বলছিলাম বরগুনার সদর উপজেলার ৯ নং বালিয়াতলি ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলীর বাসিন্দাদের কথা।
ভাঙন কবলিত বাসিন্দা ফেরদাউস মিয়া, আবু তাহের, কুলসুম বেগম ও রাজিয়া বলে, তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে নদী ভাঙ্গনে তাদের সর্বোচ্চ বিলিন হয়ে গেছে। কয়েক যুগ ধরেই ঘূর্ণিঝড়ের সাথে লড়াই সংগ্রাম করে তাদের বেঁচে থাকতে হয়েছে। বেরিবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখন জোয়ার ভাটার পানির সাথেই লড়াই করে বেঁচে আছেন তারা। তাদের দাবি সর্বশেষ আশ্রয়টাকে রক্ষা করতে সরকার যেন অনতিবিলম্বে স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেয়। তারা কোন ত্রাণ চায় না।তারা কোন সহযোগিতা চায় না। তারা শুধু একটা স্থায়ী বেরিবাঁধ চায়।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, এ জেলায় মোট ৮ শো ৫ কিলোমিটার বন্যা রক্ষা বাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে বেশ কিছু স্থান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, তারমধ্যে পালের বালিয়াতলী প্রায় ২ কিলোমিটার বেরিবাঁধ একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়া বেরিবাঁধের পাশে বেশ কিছু ঘর বাড়ি রয়েছে তাদের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের চাহিদা দিয়েছি বরাদ্দ পেলে পালের বালিয়াতলী সহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ