
লালমনিরহাটে পরিবেশের ক্ষতি ও কৃষিজমির উপরিভাগের ক্ষয় রোধে ইটের বিকল্প পরিবেশবান্ধব, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়সাশ্রয়ী কংক্রিট ব্লক উদ্ভাবন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সারা দেশে ইটভাটায় জমির উপরিভাগের মাটি পোড়ানো ও বিষাক্ত ধোঁয়া নিঃসরণের কারণে পরিবেশ দূষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি রোধে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক তৈরি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে।
২০২০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর থেকে ফড়িংদীঘি রোডস্থ কাজীর চওড়া এলাকায় ইকো কংক্রিট প্রোডাক্টস্ ১৩ প্রকারের পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক উৎপাদন শুরু করে। এসব ব্লক তৈরিতে ফ্লাই অ্যাশ, পাথরের ধুলো, নদীর তলদেশ থেকে নেওয়া বালি, সিমেন্ট ও শুকনো মাটি ব্যবহার করা হয়। নির্মাণ শ্রমিকরা মেশিনের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরণের ব্লক প্রস্তুত করছেন, যেমন কম্প্রেসড স্ট্যাবিলাইজড আর্থ ব্লক (সিএসইবি), ইন্টার লিংকিং সিএসইবি, কংক্রিট হোলো ব্লক, থার্মাল ব্লক, ফেরো সিমেন্ট স্যান্ডউইচ প্যানেল, সেলুলার ব্লক ও ফ্লাই অ্যাশ ব্রিক।
কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করলে সাধারণ ইটের তুলনায় বিল্ডিং নির্মাণে খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে। এছাড়া এগুলো পরিবেশবান্ধব, ওজনে হালকা, ভূমিকম্প ও আগুন সহনশীল এবং উষ্ণ ও শীতল আবহাওয়ায় সুবিধাজনক। বর্তমানে লালমনিরহাটের সরকারি ও বেসরকারি ভবন, রাস্তা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইকো কংক্রিট প্রোডাক্টস্ এর ম্যানেজিং পার্টনার মো. লুৎফর রহমান বলেন, “পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে নির্মাণ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়াচ্ছে।”
লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাইখুল আরিফিন বলেন, “চাষযোগ্য জমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহারের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে। পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক ব্যবহার কৃষি ও টেকসই উন্নয়ন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার হোসেন বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুসারে ২০২৭ সালের মধ্যে সব সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে