
শতভাগ উৎসব ভাতাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় প্রতিনিধি সভায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী জাতীয় ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান (আদনান হাবীব) লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় প্রধান সমন্বয়কারী আজিজুল হক রাজাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: আসন্ন ঈদের আগেই শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে কর্মচারী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ পেনশন সুবিধা চালু, কর্মচারীদের সার্বজনীন বদলির ব্যবস্থা ও প্রতি প্রতিষ্ঠানে দুইজন নৈশপ্রহরী নিয়োগ, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, শিক্ষাভাতা, টিফিনভাতা ও বাড়িভাড়া ভাতা প্রদান,ল্যাব সহকারী পদকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি, নন-এমপিও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তকরণ, ৯ম পে-স্কেলে ১:৪ অনুপাত বাস্তবায়ন ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন করে ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ করা এবং যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, “২০০৪ সালে দীর্ঘ আন্দোলনের পর তৎকালীন সরকার কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদান করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঈদের আগে সরকার শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ বাড়ালেও কর্মচারীদের জন্য কোনো বৃদ্ধি দেয়নি। এতে সারা দেশে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মচারী চাকরি বিধি ২০১২ অনুযায়ী গভর্নিং বডিতে কর্মচারী প্রতিনিধির বিধান থাকলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবিলম্বে এ বিধান কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।”
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট সম্পর্কেও তিনি বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং অনাবশ্যক চাঁদা আদায়ের নীতিমালা বাতিল করতে হবে।”
নৈশপ্রহরীদের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারা সাপ্তাহিক ছুটি বা উৎসব ভাতা কিছুই পান না। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের পরিপন্থী। প্রতি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুইজন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দিতে হবে।”
সংগঠনটি জানিয়েছে, ১৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। ২১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলা ও বিভাগীয় শহরে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় প্রতিনিধি সভায় আন্দোলনের কর্মসূচি ও মহাসমাবেশের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে