প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৪২ পিএম

রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার বলেছেন, নির্বাচনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, যদি আমরা কিছু করতে চাই তাহলে দয়া করে নির্বাচনের ধারণাটা বাদ দেন। নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র এটা মারাত্মক ভুল। নির্বাচনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন মানে গণতন্ত্র, এই ভুয়া তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র মানে হচ্ছে জনগণের সামষ্টিক অভিপ্রায় বাস্তবায়িত করা। এটার আরেকটা নাম আছে, সেটা হচ্ছে গণ-সার্বভৌমত্ব। জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা কখনো হরণ করা যায় না। আন্দোলনসহ বিভিন্ন কিছুর মধ্য দিয়ে জনগণ তার এই গাঠনিক ক্ষমতাকে জারি রাখে।
তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলো রয়ে গেছে। যেহেতু শেখ হাসিনার রাষ্ট্রকে আমরা টিকিয়ে রেখেছি, সেই রাষ্ট্রটা এখনো আছে।
এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইঙ্গিত করে ফরহাদ মজহার বলেন, ফলে সেই রাষ্ট্রটি আপনার সামনে দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এটাকে আপনি ভাঙতে পারছেন না। আপনি বলছেন এটাকে সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ খুব সহজ। নতুন গণপরিষদ গঠন করা এবং একটা গণপরিষদে নির্বাচন করা। গণপরিষদে আমাদের সমস্ত সাংবিধানিক প্রশ্ন, সকল আইনি প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় প্রশ্ন ফয়সালা করা। যখন আমরা সিম্পল ফরমূলাকে জটিল করে ফেলি, এদিক-ওদিক নিয়ে যাই, তখন বিভিন্ন শক্তির কারণে আমরা এটাকে তখন নষ্ট করে ফেলি।
ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “জনগণকে সুযোগ দিন তারা যেন নিজেরাই বলতে পারে, কেমন বাংলাদেশ তারা চায়। জনগণের হাতে ক্ষমতা দিন। তা না করে আপনি দুই-তিনজনকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছেন—এর তো কোনো বৈধতা নেই। আপনাদের এরকম কিছু করার কোনো এখতিয়ারও নেই।”
আলোচনা সভায় কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ