| শিরোনাম: |

পাকিস্তানে দীর্ঘ সাত বছর বন্দি থাকার পর হিমালয়ের বাদামি ভাল্লুক রানো অবশেষে মুক্তি পেয়েছে। আদালতের নির্দেশে এটি করাচি চিড়িয়াখানা থেকে ইসলামাবাদের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। আপাতত রানো ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকবে এবং পরবর্তীতে দেশটির উত্তরাঞ্চলের ঠান্ডা পরিবেশে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হবে।
২০১৭ সাল থেকে করাচি চিড়িয়াখানায় বন্দি থাকা ২৪ বছর বয়সি রানোর মানসিক ও শারীরিক অবস্থার প্রতি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা। এক স্থানীয় বাসিন্দা আদালতে পুনর্বাসনের আবেদন করেন এবং আদালত রানোর মুক্তির নির্দেশ দেন। গত ৫ নভেম্বর পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) একটি বিমানে করে রানো ইসলামাবাদ ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডে (আইডব্লিউএমবি) পৌঁছে।
সিন্ধু বন্যপ্রাণী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রানো মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রাণী। করাচির গরম ও কৃত্রিম পরিবেশে এটি কষ্ট পাচ্ছিল। ইসলামাবাদে আপাতত স্থাপনের পরও বন্যপ্রাণী বিভাগ প্রস্তাব দিয়েছে পরবর্তীতে উত্তরাঞ্চলে স্থানান্তরের জন্য।
ইসলামাবাদ ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের বিশেষজ্ঞ দল রানোর শারীরিক পরীক্ষা, আচরণ এবং খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ শেষে এটি মারগাল্লা উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছে। কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার পর রানোকে বড় এনক্লোজারে মুক্ত করা হবে, এবং পরবর্তী পর্যায়ে ক্রেট ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে গিলগিটের বিশেষ সুরক্ষিত এলাকায় পাঠানো হবে।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে রানোকে পুরোপুরি বনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তে উত্তরাঞ্চলের ঠান্ডা পরিবেশে একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এনক্লোজারে রানোর জন্য মুক্ত জীবন নিশ্চিত করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ