দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা সদরের অন্তত দুইটি ফার্মেসিতে অ্যান্টিভেনম রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। শনিবার রিটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নূরুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। স্বাস্থ্য সচিব ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রিটকারী আইনজীবী মীর এ কে এম নূরুন্নবী জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু এবং ৬১০ জনের দংশনের শিকার হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে রিটটি করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে। বিষধর সাপগুলোর মধ্যে গোখরা, কালাচ, চন্দ্রবোড়া (রাসেলস ভাইপার) ও সবুজ সাপ সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় না। ভারত থেকে আমদানি করা অ্যান্টিভেনম সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। তবে অ্যান্টিভেনমের ক্রয়, বিতরণ ও প্রয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।