প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১:১৪ পিএম

ঢাকার দোহার উপজেলায় নামের মিল থাকায় ভুল আসামি গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে থানার পুলিশের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০০২ সালে রাজধানীর মিরপুর থানায় দোহার উপজেলার দক্ষিণ বাহ্রা গ্রামের খলিল আহমেদের ছেলে আলমাছকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২০০৪ সালে আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে আসামি আলমাছ পলাতক ছিলেন।
তবে ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় গত ৪ নভেম্বর দোহার উপজেলার সুন্দরীপাড়া এলাকা থেকে এক নিরপরাধ যুবক একই নামের আলমাছকে গ্রেফতার করেন দোহার থানার মাহমুদপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জুবাইদুল হক। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার হওয়া আলমাছের পরিবারের দাবি, তিনি কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং কখনোই ঢাকায় থাকেননি বা যাননি। কেবল নাম ও পিতার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে ভুলভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আলমাছের বোন নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “২০১৮ সালেও একই মামলায় পুলিশ আমার ভাইকে ভুল করে গ্রেফতার করেছিল। এবারও আমরা আগের কাগজপত্র দেখিয়ে বলেছিলাম আমার ভাই সেই সাজাপ্রাপ্ত আলমাছ নন। কিন্তু পুলিশ আমাদের কোনো কথাই শোনেনি।”
নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফেরদৌসি বেগম বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরু ভূইয়া ও গ্রাম পুলিশ ঝন্টু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আসল সাজাপ্রাপ্ত আলমাছের বাড়িঘর অনেক আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা কোথায় আছেন, কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না।
এ বিষয়ে এসআই জুবাইদুল হক বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপরাধ দাবি করা হলে আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। তাদের নির্দেশেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়।”
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, “প্রমাণ পাওয়ার পরই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যদি আসামিপক্ষের কোনো সন্দেহ থাকে, তারা আদালতে প্রমাণ দিয়ে মুক্তি পেতে পারেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে