প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২৫ AM

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা দুই ব্যক্তিকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ছাত্র হলের মসজিদের সামনে আগাছা নিধন, কীটনাশক প্রয়োগ ও ফুলগাছ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হামজা ও মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তবে কর্মসূচির প্রকাশিত ছবিতে ছাত্রলীগের সমাজকর্ম বিষয়ক বিভাগের সদস্য মো. আসমাউল হাসান ও মো. মোবাশ্বির হাসানকে অংশ নিতে দেখা যায়। এ কারণে বিষয়টি ছাত্রদলের ভেতরেই প্রশ্ন তৈরি করেছে—ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কি পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে?
এ প্রসঙ্গে আয়োজক শাখাওয়াত হোসেন জিকু বলেন, “তাদের নাম ছাত্রলীগের কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছিল তাদের অজান্তে। পরে তারা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।” তিনি দুইজনের পদত্যাগের ফেসবুক স্ক্রিনশটও দেখান। তবে যাচাই করে আসমাউলের ফেসবুক আইডিতে উল্লিখিত তারিখে পদত্যাগ সম্পর্কিত কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল—যদি কেউ ছাত্রলীগ থেকে সরে আসে, তাহলে তাকে হল বা বিভাগীয় কমিটিতে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ কর্মসূচি কেন্দ্রীয় কোনো আয়োজন ছিল না, হল কমিটির উদ্যোগে হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব যীনাত মিয়া আজিজুল জানান, “আমি এই কর্মসূচি সম্পর্কে জানতাম না। ছাত্রলীগের কমিটিভুক্ত কাউকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি বা পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আমাদের কেন্দ্র থেকে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার — কমিটি ‘ক্লিন’ থাকতে হবে। সেই নীতির বিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, প্রচার ও মিছিল নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও প্রতীক রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ