প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:০০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারজানা রহমানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে।
চৈতী কম্পোজিটের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানী শেষে গত ২রা সেপ্টেম্বর শুনানী শেষে ৩০দিনের মধ্যে আইনসঙ্গতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা দেন। হাইকোর্টের নির্দেশনার ৩০দিন অতিবাহিত হলেও পৌর প্রশাসক নিষ্পত্তি করেননি। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সও নবায়ন করেননি। ফলে পোষাক রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চৈতী কম্পোজিট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সোনারগাঁ পৌর এলাকায় টিপরদীতে অবস্থিত চৈতী কম্পোজিট লিমিটেড, চৈতী নীট কম্পোজিট, দি প্লাষ্টিক ম্যান লিমিটেড, কিটওয়ে প্যাক প্রাইভেট লিমিটেড, আবুল কালাম স্পিনিং মিলস্ লিমিটেড, চৈতী এ্যাগ্রো ফুড ইন্ড্রাষ্টিজ ও উত্তরা এ্যাগ্রো ফার্ম এন্ড ফিশারীজ লিমিটেড গড়ে উঠে। প্রতিষ্ঠানগুলো সোনারগাঁ পৌর এলাকা ছাড়াও সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় রয়েছে। সোনারগাঁ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ চৈতী কম্পোজিটকে এক কোটি ৮২হাজার ৭শ টাকা পৌর কর পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করে।
চৈতী কম্পোজিটের দাবি, ২০১৩ থেকে ২০২৩ অর্থ বছর পর্যন্ত গড়ে ৬লাখ টাকা করে পৌরকর পরিশোধ করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করছেন। ২০২৪ সালে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫অর্থ বছরে এক কোটি ৮২হাজার ৭শ টাকা পৌরকর পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ পৌর কর পূর্বের ন্যায় গ্রহণ করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। কর পরিশোধের বিষয়ে পৌর কার্যালয়, পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় গেলেও পৌর প্রশাসক চৈতী কর্তৃপক্ষকে কোন পাত্তা দেননি।
চৈতী কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম বাদি হয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সোনারগাঁ পৌর প্রশাসককে বিবাদী করে ১৭ আগষ্ট রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের পৌরকরের এক কোটি ৮২হাজার ৭শ টাকা পৌরকর পরিশোধের কার্যকরিতা গত ২রা সেপ্টেম্বর শুনানী শেষে হাইকোর্ট বিভাগ স্থগিত করে। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে আইনসঙ্গতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
চৈতী কম্পোজিটের মহা ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, তাদের কোম্পানি পোষাক রপ্তানি করে থাকেন। বিগত বছরগুলোতে তারা নিয়মিতভাবে পৌর কর্তৃপক্ষের ধার্য্য করা ৬ লাখ টাকা করে কর পরিশোধ করেছেন। বর্তমানে তারা মনগড়া মতো পৌরকর ধার্য্য করেছেন। তারা ব্যবহার করছেন না এমন সেবার উপরও কর নির্ধারণ করেছেন। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় কোম্পানিকেও পৌরকরের আওতায় নিয়েছেন। উচ্চ আদালত তাদের পৌর করের কার্যকরিতা স্থগিত করেছেন। সেটা ইউএনও মানতে চাইছেন না।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারজানা রহমান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার আমাদের সুযোগ নেই। এক পক্ষের শুনানী করে আদালত রায় দিয়েছেন। কি কারনে চৈতী গ্রুপের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না আদালতকে জানানোর জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে আইনজীবি নিয়োগ করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস