প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৪ পিএম

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের মেঘনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বহু বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর কাঠামোতে ফাটল ধরা পড়েছে, নিচের মাটি ধসে গেছে এবং কয়েকটি অংশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্ষার সময়ে খালের পানি জমে সেতুটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ে আসার রাস্তাটিও কাঁচা, বৃষ্টির সময় কাদা ও পানি জমে শিক্ষার্থীদের চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে। বর্তমানে এখানে ৮৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়ের EMIS কোড ৩০৬০৯১০০৪ এবং জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ।
শিক্ষার্থীরা জানান, “আমরা ভয় পাই সেতু পার হতে। তবুও স্কুলে আসতে হয়। রাস্তাটাও কাঁচা, বৃষ্টিতে কাদা হয়ে গেলে হাঁটাও কষ্টকর হয়।”
অভিভাবকরা বলেন, “প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে।” তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুলসুম আক্তার বলেন, “সেতুর কাঠের তক্তা অনেকখানি ক্ষয়ে গেছে। বাঁশের ওপর দিয়ে পারাপার করতে হয়। বর্ষার সময়ে সেতুটি পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং নিচের খালের পানি ওঠে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আশেপাশের গ্রামের মানুষও এটি ব্যবহার করেন। আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছি। আশা করি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার বলেন, “বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকিমুক্ত পাঠদানের বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
এলাকাবাসী আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা সেতুর সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। এটি দ্রুত নির্মাণ হলে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আশেপাশের চারটি গ্রামের মানুষও উপকৃত হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে