
হারিয়ে যাওয়া শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন ঢাবি ছাত্রদল নেতা সানজিদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে পথ হারানো এক আট বছরের শিশু রহমানকে তার পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানজিদ ইসলাম সাহিব।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে গায়ে জ্বর নিয়ে শুয়ে ছিল ছোট্ট রহমান। বিষয়টি নজরে আসে ছাত্রদল নেতা সানজিদের। তিনি বাচ্চাটির শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হন। এরপর শিশুটিকে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দিয়ে শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন বাচ্চাটি হারিয়ে গেছে। শিশুটি নিজের নাম ‘রহমান’ জানালেও তার পিতামাতার নাম বা সঠিক ঠিকানা বলতে পারছিল না।
রহমান জানায়, সে টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে গত ৭ দিন যাবৎ অবস্থান করছিল এবং সেখান থেকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এসেছে। বাসার ঠিকানা জানতে চাইলে শিশুটি শুধু “সূত্রাপুর” এলাকার নাম উচ্চারণ করতে পারে।
এরপর তিনি বাচ্চাটিকে নিয়ে টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে ফিরে যান। সেখানে জানা যায়, হারিয়ে যাওয়ার পর ওই শিশুটি কিছু ভবঘুরের কবলে পড়েছিল, যারা তাকে অসাধু কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল।
পরিস্থিতি বুঝে সানজিদ শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। তবে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই থানায় শিশুটি নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। তাই তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন না।
এরপর তিনি সূত্রাপুর থানায় যোগাযোগ করেন এবং রহমানের সম্পূর্ণ ঠিকানা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত রহমানকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সন্তান ফিরে পেয়ে রহমানের মা বলেন, “রহমান আমার একমাত্র ছেলে। আমার বাচ্চাকে আমি পড়াশোনা করিয়ে একজন আর্মি অফিসার বানাতে চাই। কিন্তু সংসারে অভাব থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনার খরচ চালাতে পারি না।”
তিনি সানজিদকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “তিনি নিশ্চয়ই একজন ভালো মায়ের সন্তান। তার দায়িত্ববোধের জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং তার জন্য আমি মন থেকে দোয়া করি।”
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা সানজিদ বলেন, “ছাত্রদল সেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে অনাহারী পথশিশুদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের পথশিশু, ফুলবিক্রেতা এবং ছিন্নমূল মানুষদের জন্যও কাজ করে। এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে রহমানকে একা বসে থাকতে দেখে প্রথমেই মনে হয়েছিল কিছু একটা হয়েছে। একজন মায়ের কোলে তার সন্তানকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। এটা কোনো রাজনৈতিক কাজ নয়, মানবিক দায়িত্ব।”