জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সুদানের গৃহযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দোহায় তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আরএসএফের এল ফাশার দখলের পর থেকে পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, “সুদানের উত্তর দারফুরের এল ফাশার এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো ক্ষুধা, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাদের অবরোধের ফলে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছে। অপুষ্টি, রোগ ও সহিংসতায় মানুষ মারা যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এসএএফ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস আরএসএফ প্রায় ১৮ মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যাকে জাতিসংঘ একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটের একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এল ফাশারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন তারা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্রবিরতি সমর্থন করার বিষয়ে মঙ্গলবার আলোচনায় বসেছে সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ)। অস্ত্রবিরতি কার্যকর করার শর্ত কি হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেছে। শর্ততে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে সুদানের শহরগুলো, বিশেষ করে এল ফাশার, থেকে সরানোর বিষয়ে কথা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসএএফ ও আরএসএফ-এর মধ্যে সহমতের অভাবে যেকোনো অস্ত্রবিরতি অস্থায়ী হতে পারে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত আরএসএফ কর্তৃক বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করার ভিডিওতে দেখা যায় দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কতোটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান