
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে দলটি তাদের দাবির কথা জানান।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল উল্লেখ করেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী সংসদ (কুকসু) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এখনও বহাল রয়েছে। দলটি প্রশ্ন তুলেছে, রাজনীতি নিষিদ্ধ রেখে সংসদ গঠন করা কতটুকু বৈধ ও গ্রহণযোগ্য।
ছাত্রদলের যুক্তি, “রাজনীতি করা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটানো প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাংবিধানিক অধিকার। ২০২৪ সালের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো এখনও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বৈষম্যের শিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত।”
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, একটি সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু শিক্ষার্থী সংসদ গঠনের জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। তবে বর্তমানে কুবিতে এমন পরিবেশ নেই। ছাত্রদলের দাবি, সংসদ গঠনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে এবং সক্রিয় সকল ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম উন্মুক্ত রাখতে হবে।
ছাত্রদল উল্লেখ করেছে, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংসদ গঠিত হয়েছে, সেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় ছিল। উদাহরণ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘সেখানে প্রশাসন সংসদ গঠনের আগে ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত করেছে, কিন্তু কুবিতে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।’”
এছাড়া, কুবি ছাত্রদল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের খসড়া গঠনতন্ত্র নিয়ে কিছু সংস্কারমূলক প্রস্তাব উপস্থাপন করতে চায় এবং প্রশাসনের সঙ্গে একটি সম্মিলিত বৈঠকের সুযোগ কামনা করেছে।
ছাত্রদলের শাখা সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। কুকসু হোক, আমাদেরও চাই। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি যাতে রাজনীতির স্বাধীনতা উন্মুক্ত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হলে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আমরা আবেদন করেছি কুকসুকে সামনে রেখে আমাদের রাজনীতি উন্মুক্ত করার জন্য, যাতে সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হয়। রাজনীতি ওপেন থাকুক, পাশাপাশি কুকসুর কার্যক্রমও চালু থাকুক।”
ছাত্রদল স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ছাত্রসংসদ সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে ক্যাম্পাসে রাজনীতি উন্মুক্ত করা হোক এবং সকল ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে