প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১৩ AM

সংগৃহীত ছবি
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের পর পকেটে পাওয়া একটি ব্যাংক চেকের সূত্র ধরে শনাক্ত হয়েছে ছয় বছর আগে চট্টগ্রাম থেকে অপহৃত কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুল আহাদের মরদেহ।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা দেওয়ার পরও তাকে জীবিত ফেরত পায়নি তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে অচেতন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো. আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র পরীক্ষা করে। এ সময় তার পকেট থেকে উত্তরা ব্যাংকের ফেনীর বিরিঞ্চি শাখার একটি চেক পাওয়া যায়, যেখানে হিসাবের নাম ছিল ‘আবদুল আহাদ’।
পরে পুলিশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিশ্চিত করে যে এটি আবদুল আহাদের হিসাব। নিহতের পরিচয় প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফেনীতে তার ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টি নিয়েও দেখা দেয় ধোঁয়াশা। দিনভর তদন্তে প্রকাশ পায়, তার ফেনীতে আসার পেছনে ছিল একটি রহস্যময় গল্প।
নিহতের ছোট বোন নাঈমা নাসরিন মনি বলেন, “আমার ভাই একসময় সিলেট ব্রিটানিকা উইমেন্স কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি সিলেট বিমানবন্দরে কাস্টমসের অডিটর হিসেবে যোগ দেন। এরপর একই পদে তিনি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করেন।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৯ সালের ১ মে হঠাৎ আমার ভাইয়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর একটি অজানা নম্বর থেকে জানানো হয়, তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠাতে হবে। আমরা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী টাকা পাঠাই, কিন্তু পরে আর কোনো যোগাযোগ পাইনি। ছয় বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানতে পারি ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে।”
ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী নিহত আবদুল আহাদ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার হাজীপুর ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের ইমানী মিয়ার ছেলে।
তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”