প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, ১:৫০ AM

সুদানের দারফুর অঞ্চলের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এল-ফাশেরে ভয়াবহ রক্তপাত ও গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১৭ মাসের দীর্ঘ অবরোধের পর আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটি দখল করার পরই এই নৃশংসতা শুরু হয়।
সুদান সরকারের দাবি, মাত্র কয়েকদিনে ২,০০০-এরও বেশি নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে।
শহরের শেষ আংশিকভাবে চালু থাকা হাসপাতাল, যেখানে আরএসএফের হামলায় ৪৬০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে।
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হত্যাকাণ্ডকে জাতিগত নির্মূলের সঙ্গে তুলনা করছে। বিবিসি ভেরিফাই (BBC Verify) আরএসএফ সৈন্যদের হাতে নিরস্ত্র মানুষদের গুলি করে হত্যার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
আরএসএফ প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমদতি) তার বাহিনীর 'লঙ্ঘন' তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেই আশ্বাসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আঞ্চলিক শক্তি যেমন সৌদি আরব, মিশর ও কাতার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি ও মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে এল-ফাশেরে অবরুদ্ধ প্রায় ১.৭ লক্ষ বাসিন্দা এবং সদ্য পালিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই সংঘাত আবারও প্রমাণ করল যে সুদানের প্রায় দুই বছরের গৃহযুদ্ধ কেবল একটি দেশের নয়, বরং পুরো মানবতার সংকট।
সোর্সঃ বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস