প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:২১ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি মাদ্রাসায় একদিনেই হাজিরা খাতায় পূর্বের ছয় দিনের স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই কর্মকর্তা স্থানীয় জামায়াতের ইউনিট পর্যায়ের নেতা বলেও জানা গেছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাউফল উপজেলার মধ্য নওমালা সালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহে গেলে প্রতিবেদকের সামনেই অফিস সহকারী মো. মহসিন হাজিরা খাতায় টানা ছয় দিনের স্বাক্ষর করেন। তিনি নওমালা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংগঠনের প্রধান (সুপার) আ স ম রিফকুল্লাহ ওই সময় মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। মাদ্রাসার সহ-সুপার জানান, সুপার অসুস্থ। তবে কোনো ছুটির আবেদন বা অনুমতির কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সুপার অনুপস্থিত, কোনো ছুটির আবেদন নেই—তাহলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে কীভাবে? এবং অনুপস্থিত দিনের হাজিরা একসঙ্গে পূরণ করার অধিকার অফিস সহকারী কোথায়?
এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসা সুপার আ স ম রিফকুল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত অফিস সহকারী আমার জানামতে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। কেন একসঙ্গে স্বাক্ষর করলেন, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। আমি সভাপতি সাহেবকে লিখিত দিয়ে ছুটিতে আছি।
তবে সভাপতির অনুমোদিত ছুটির আবেদন দেখানোর অনুরোধ করা হলে সুপার কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. আকরাম হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি, পরে এ বিষয়ে কথা বলব।
এদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি খাতায় জাল স্বাক্ষর বা ব্যাকডেট হাজিরা করা শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ