
ফাইল ছবি
ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ ও শাবনূর। জহিরুল হকের পরিচালনায় ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার পর্দায় জুটি বাঁধেন তারা। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিটি দারুণ সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই নায়িকা ছিলেন শাবনূর।
আজ নায়কের ৫৪তম জন্মদিনে ভালোবাসা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন শাবনূর। শোনা যায়, তাদের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। নায়কের জীবদ্দশায় সত্যিই কি প্রেম ছিল দুজনার?
কাজের সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে-এমনটাই জানিয়েছিল পিবিআই। স্ত্রী সামিরার উদ্ধৃতি দিয়ে পিবিআই জানিয়েছিল, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আর সালমান তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন।
২০২০ সালের সেই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আত্মহত্যার আগের দিন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা তার একটি সিনেমার ডাবিং দেখতে এফডিসিতে যান। সেখানে ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সামিরা স্থান ত্যাগ করেন।
ব্রিফিংয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, সামিরা শুটিং ফ্লোর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সালমান শাহ ও বাদল খন্দকার একসঙ্গে বাসায় ফিরে যান।
বেশ কয়েকবার শাবনূর সালমানের বাসায় ফোন করেন শাবনূর। সালমান শাবনূরকে বলেন, ‘তুমি আর কখনও আমাকে ফোন করবে না।’
এছাড়া সালমানের বাসায় প্রাই নাকি আসতেন শাবনূর। আত্মহত্যার আগে সালমান শাবনূরের উপহার দেয়া টেবিল ফ্যান ভেঙে ফেলেন সালমান। সালমানকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছে পিবিআই।
তবে শাবনূর এসব কথা একেবারে অস্বীকার করেছেন। তিনি ২০২০ সালেই বলেছেন, ‘‘প্রেম নয়, সালমানের সঙ্গে আমার ভাই বোনের সম্পর্ক ছিল। সালমানের নিজের ছোট বোন ছিল না, তাই আমাকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন। এটাও ঠিক, সালমান শাহ আর আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু এসবের কোনোটিই সত্য নয়। ছোট বোন হিসেবে আমাকে তিনি আমাকে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন।’’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সালমানের মা-বাবাও আমাকে আদর করতেন। সালমানের কারণে আমাকে তাদের মেয়ের মতোই দেখতেন। সালমান খুব আন্তরিক আর কাজপাগল ছিলেন। আমাদের দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার। বলতে পারেন, একে অন্যের চোখের ইশারা বুঝতে পারতাম।’
পাঁচ বছর পরও একই অবস্থানে আছেন শাবনূর। তিনি বারবারই জানিয়েছেন, সালমান শাহ তাকে ছোট বোনের মতো দেখতেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতেও শাবনূর সেই কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সালমান শাহর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। আমাদের জুটির সাফল্য একসময় অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর নিজেদের রক্ষা করতে কেউ কেউ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে আমার সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। আমাদের নিয়ে যে জলঘোলা হয়েছে, তা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করেছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ