প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:১৯ পিএম

মোংলা বন্দর দিয়ে দেশে শতভাগ রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির পরিকল্পনা
মোংলা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে দেশে এবার শতভাগ রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। চট্টগ্রাম বন্দরে রিকন্ডিশন গাড়িসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৪১ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধির ফলে এবার মোংলা বন্দরের মাধ্যমে দেশে শতভাগ রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বারভিডা।
বারভিডার এই পরিকল্পনাটি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে দেশে মোট আমদানের ৭০ শতাংশ রিকন্ডিশন গাড়ি মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আসে।
বর্তমানে মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ের ৫০ শতাংশ আসে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির মাধ্যমে। দেশে মোট আমদানের ৭০ শতাংশ রিকন্ডিশন গাড়ি এই বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হওয়ায় মোংলা কাস্টম হাউজের রাজস্ব আয় বেড়েছে কয়েকগুণ।
তিনি আরও জানান, হকস বে অটোমোবাইলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০০৯ সালের ৩ জুন মোংলা বন্দর মাধ্যমে সর্বপ্রথম ২৫৫টি জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি শুরু করে। এর পর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি হয়ে আসছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ৬১,৩০৩টি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার সাথে মোংলা বন্দরের দূরত্ব প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও কম সময়ের কারণে আমদানি করা গাড়ি ঢাকায় পৌঁছাতে এখন সময় লাগছে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা।
মোংলা বন্দর কর্মকর্তারা আশা করছেন, এখন থেকে আমদানিকারকরা শতভাগ বিদেশি রিকন্ডিশন গাড়ি মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আনবেন। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোংলা বন্দর দিয়ে ৩,০৪০টি বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। জাহাজ জট না থাকা এবং পর্যাপ্ত গাড়ি রাখার জায়গা থাকার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই বন্দর কর্মকর্তা।