
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ত্রিশাল–পোড়াবাড়ী ভায়া দুর্গাপুর–কুরুয়াগাছা সংযোগ সড়কটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে রাস্তাটি ভেঙে তৈরি হয়েছে হাঁটুসমান গর্ত ও জলাবদ্ধতা, যা দেখতে এখন অনেকটা দু’পাশে খালের মতো। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বাদামিয়া, কুরুয়াগাছা ও দুর্গাপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার প্রায় পুরো অংশই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত ভারী মালবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর খাদ। এখন বড় চাকার লরি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। ছোট যান যেমন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা পথচারীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, এক অটোরিকশা খাদে আটকে পড়েছে, চালক ও স্থানীয়রা মিলে সেটি তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে অসুস্থ এক নারীকে কয়েকজন মিলে কাদা মাড়িয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন যা দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
অটোরিকশা চালক খায়রুল ইসলাম বলেন, “আগে জানলে এই রাস্তায় আসতাম না। গাড়ি খাদে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকার লোকজন সাহায্য না করলে পার হতে পারতাম না। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত রাস্তা মেরামত করা হোক।”
স্কুল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “রাস্তাটা এত খারাপ যে স্কুলে যেতে ভয় লাগে। বৃষ্টির সময় পা কাদায় ডুবে যায়, পড়ে যাই। এতে অনেক দিন ক্লাসে যেতে পারি না। সরকার যেন দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আকরামুল ইসলাম বাবুল বলেন, “বহুবার জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন এই রাস্তা দিয়ে চলাচলই দুঃসাধ্য।”
বয়োবৃদ্ধ হাফেজ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা বাজারে যাই, নামাজে যাই। এখন এমন অবস্থা যে হাঁটাও কষ্টকর। ভয় হয়, কখন পা পিছলে পড়ে যাই।”
মঠবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবুল কালাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত। আংশিক অংশে সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। বাকি অংশও এই অর্থবছরের মধ্যেই অনুমোদনের আশা করছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি বলেন, “স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে সড়কটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে এবং দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে