প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৫৬ পিএম

কুমিল্লা জেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন নাজনীন সুলতানা। তিনি বর্তমানে লাকসাম থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৭টি উপজেলা ও ১৮টি থানা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা জেলার ইতিহাসে এর আগে কোনো নারী ওসি দায়িত্ব পালন করেননি। সেই হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন নাজনীন সুলতানা। তিনি গত বছরের ১০ অক্টোবর লাকসাম থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর জানান, ১৭৯০ সালে ত্রিপুরা জেলা (বর্তমান কুমিল্লা) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮৬১ সালে দেশে আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেড়শ বছরের বেশি সময়েও কুমিল্লার কোনো থানায় নারী ওসি হিসেবে কেউ দায়িত্ব পাননি। তাই লাকসামের ওসি নাজনীন সুলতানা কুমিল্লা পুলিশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে এই দায়িত্ব পেলেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা নাজনীন সুলতানা চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ২০০৭ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন এবং ২০১৬ সালে পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর) পদে পদোন্নতি পান। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের পর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি লাকসাম থানায় যোগ দেন। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত লাকসাম থানার এটি ৪০তম ওসি পদ, এবং প্রথমবারের মতো কোনো নারী এখানে দায়িত্বে আছেন।
নাজনীন সুলতানা বলেন, “চাকরির শুরু থেকেই দেখেছি, মেয়েরা খুব কমই ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। আমি চেয়েছিলাম একদিন এই পদে কাজ করতে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মানুষ ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালনে কোনো রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়িনি।”
পুলিশে যোগদানের পেছনের গল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ভাই প্রথমে পুলিশে আবেদন করেছিলেন কিন্তু সুযোগ পাননি। পরে তিনি আমাকে উৎসাহ দেন সুপারিশ ছাড়াই যোগ্যতায় চাকরি হবে। তাঁর উৎসাহেই আমি আবেদন করি এবং চাকরিটা পেয়ে যাই।”
নাজনীন সুলতানার স্বামীও পুলিশে কর্মরত। তাঁদের একমাত্র ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।
কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “নাজনীন সুলতানা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি থানায় নারী কর্মকর্তাদের ওসি হিসেবে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে