প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২২ পিএম

নীলফামারীর ডোমারে প্রেমের পর পালিয়ে বিয়ে করা এক কলেজছাত্রী ও তার স্বামীকে ঘিরে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মেয়েকে উদ্ধার করার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অপহরণ মামলায় নববিবাহিত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মটকপুর পাটোয়ারী পাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত এনামুল হকের মেয়ে উর্মি ও একই এলাকার সাজু ইসলামের ছেলে সেতু দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। পরিবার রাজি না হওয়ায় তারা ৮ অক্টোবর পঞ্চগড়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে অবস্থান করছিলেন।
পরিবার মেয়েকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে পুলিশ তিন দিন পর আটোয়ারী থেকে নবদম্পতিকে উদ্ধার করে ডোমার থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু থানায় আসার পর মেয়ের পরিবার নববিবাহিত স্বামী সেতু ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করে।
এরপর পুলিশ সেতুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মেয়েটিকে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ব্রিজ সংলগ্ন ব্লু স্টার স্কুলের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। কিন্তু স্থানীয়রা এ ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন।
ব্লু স্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত রায় বলেন, “স্কুলের সামনে কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি এবং আমরা এমন কিছু শুনিওনি।” একই এলাকার ফল বিক্রেতা গোলাম মোস্তফা ও দোকানদার স্বপন ইসলাম জানান, তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখেন, কিন্তু এমন কোনো ঘটনার সাক্ষী হননি। স্কুলের সামনের সিসিটিভি ফুটেজেও অপহরণের কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
অপহরণ মামলার বাদী মেয়ের চাচা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “অপহরণের বিষয়ে আমরা এখন কোনো মন্তব্য করব না, আদালতেই সব বলা হবে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডোমার থানার এসআই কাজল রায় জানান, “সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে আমরা আটোয়ারী থেকে উর্মি ও সেতুকে উদ্ধার করি। থানায় আনার পর উর্মি স্বীকার করেছে যে, তাকে স্কুলের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে