
যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি নদীর ৮১.৫০০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে যোগ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন,“সরকার ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জলাবদ্ধতা দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে এই সংকটটি অনেক গভীর। তাই স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি আমরা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রকল্পের দিকেও কাজ করছি।”
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পে ৬টি নদীর ৮১ কিলোমিটার খননের মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা আংশিকভাবে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক বিএম আব্দুল মোমিন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি, মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতারা।
লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ বলেন,“ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনী যেকোনো কঠিন কাজের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এই ৬টি নদী খননের মাধ্যমে আমরা পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি করছি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবদহের মানুষ স্থায়ীভাবে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।”
অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, জামায়াত নেতা গাজী এনামুল হক, ও সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে মোনাজাতের পর ভবদহ স্লুইসগেট এলাকার পাশ থেকে মাটি কাটার মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান,“বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ