প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৮ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক মহিলা মেম্বার জাহানারা বেগম ওরফে জাইন্না মেম্বারের বাড়িতে চলা কথিত পতিতালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৫৫ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জাহানারা বেগম নিজে বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৩৫ জনকে আসামি করে লক্ষ্মীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের মৌলভীরটেক এলাকায় তার বাড়িতে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জাহানারা বেগমের বসতঘরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের এনে দেহ ব্যবসা চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি এসব বন্ধ করেননি।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে দুই নারীকে অনৈতিক অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। ওই দুই নারী ফেনী জেলার বাসিন্দা। এ সময় উত্তেজিত জনতা জাহানারার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। জনতার গণধোলাই থেকে বাঁচতে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর মৌলভীরটেক এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে জাইন্না মেম্বারের বাড়িতে দেহ ব্যবসা চলছে, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখন যখন মানুষ প্রতিবাদ করেছে, তখন তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে।” তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাহানারা বেগমের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঘটনার বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে যৌন ব্যবসা চলার অভিযোগ ছিল। এ কারণে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। মামলার কপি এখনো থানায় আসেনি; হাতে পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে