| শিরোনাম: |

ডিম হলো প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, ডিম খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়—বিশেষ করে কুসুম খেলে। তাই কেউ কুসুম বাদ দিয়ে খান, কেউ আবার ডিম খাওয়াই বন্ধ করে দেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডিমের কুসুমেই রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্ধেক পুষ্টিগুণ।
ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি, এ, ই, জিঙ্ক, ফসফরাস, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও কোলিনসহ চোখের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট পাওয়া যায়। অন্যদিকে সাদা অংশে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন।
ডিমের কোলেস্টেরল—ভালো না খারাপ?
অনেকের ধারণা, ডিম খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সবার ক্ষেত্রে তা সত্য নয়। সঠিক পরিমাণে খেলে ডিম সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান খুশমা শাহ বলেন, আমাদের লিভার স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরল তৈরি করে। তাই খাদ্য থেকে এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ভালো (এইচডিএল) ও খারাপ (এলডিএল) কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডিম খাওয়ার পর ৭০ শতাংশ মানুষের কোলেস্টেরল মাত্রা অপরিবর্তিত থাকে। বাকি ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায় না।
ডিমের পুষ্টিগুণ
একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আগে ধারণা করা হতো এটি ক্ষতিকর, কিন্তু আধুনিক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে—খাবারের কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরলকে তেমন প্রভাবিত করে না। কারণ শরীর নিজে থেকেই উৎপাদন কমিয়ে বা বাড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে।
চীনের Journal of Heart–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।
দিনে কয়টি ডিম খাবেন
বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২টি ডিম খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী।
কীভাবে খাবেন
ডিম সিদ্ধ বা পোচ করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। বাটার, চিজ বা বেকনের সঙ্গে রান্না না করে সবজি, হোল গ্রেইন ও হার্বসের সঙ্গে খেলে এটি হয় আরও স্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি শাকসবজি, ফল ও পূর্ণ শস্যযুক্ত খাদ্যাভ্যাস শরীর ও হৃদ্যন্ত্র দুটোই ভালো রাখে।
তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভয় না পেয়ে বরং নিয়ম মেনে প্রতিদিন ডিম খান—স্বাস্থ্য থাকবে ভালো, দেহে বাড়বে শক্তি ও পুষ্টি।