প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:০০ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০২৫ ৩:৩৯ PM

একটি ত্রিভুজ প্রেমের জেরে ঘটে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ড। প্রেমিক জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় দেখেও একফোঁটা সহানুভূতি দেখাননি প্রেমিকা বর্ষা। বরং তিনতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে রক্তাক্ত জোবায়েদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তুমি না মরলে আমি মাহিরের হবো না।” এই বাক্য উচ্চারণের পরই জোবায়েদ নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছুরিকাঘাতের পরও জোবায়েদ তখনো জীবিত ছিলেন। বাঁচার জন্য তিনি দুইতলা থেকে হেঁচড়ে তিনতলায় উঠে বর্ষার সামনে এসে অনুনয় করেন—“আমাকে বাঁচাও।” কিন্তু বর্ষা ঠান্ডা মাথায় বলেন, “তুমি না মরলে আমি মাহিরের হবো না।” এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, আর জোবায়েদ দরজায় নক করেও কোনো সহায়তা পাননি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এটি ছিল একটি ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনা। বর্ষা একদিকে জোবায়েদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেও অন্যদিকে মাহিরের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দুই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। একপর্যায়ে বর্ষা মাহিরকে বলেন, “জোবায়েদকে না সরালে তোমার কাছে ফিরতে পারবো না।” এরপর বর্ষার পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির ও তার বন্ধু আয়লানসহ তিনজন মিলে জোবায়েদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার দিন মাহির জোবায়েদকে বর্ষার থেকে সরে যেতে বলেন। এতে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে জোবায়েদকে আহত করা হয়। বর্ষার সেই কথার মতোই, শেষ পর্যন্ত মৃত্যু নিশ্চিত হয় জোবায়েদের।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি মিন্নি–রিফাত হত্যাকাণ্ডের ধাঁচে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে