
সংগৃহীত ছবি
গ্রীষ্মের প্রখর তাপ আর বর্ষার অবিরাম বৃষ্টির পর শরৎ আসে স্নিগ্ধ, শান্ত রূপ নিয়ে। এই ঋতুর প্রধান আকর্ষণ দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য। কাশফুল যেন পবিত্রতার প্রতীক, যা জানান দেয় শরতের আগমন। নদীর ধারে, খোলা মাঠে, চরাঞ্চলের বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের বন দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি হৃদয় ছুঁয়ে যায় এক নিঃশব্দ প্রেমে, যেন প্রকৃতি নিজেই কবিতায় পরিণত হয়েছে।
ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ চর ও দ্বীপচর এখন কাশফুলে সাদা হয়ে উঠেছে। এই কাশবনে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো দর্শনার্থী, বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে কেউ নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ বা সেলফি তুলছেন কিংবা ভিডিও ধারণ করছেন। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীপাড়ে জমে ওঠে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
উপরে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আর নিচে নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরজুড়ে দোল খাওয়া কাশফুল, যেন সাদা চাদরে মোড়া এক স্বপ্নরাজ্য। কোথাও থোকা থোকা, কোথাও ঘনবদ্ধ গুচ্ছে সাজানো এই কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকেরা।
ধরলা নদীর তীরে জয়স্বরস্বতির চর, জগমনের চর ও পাংগার চর এলাকায় ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, এখানকার প্রকৃতি সত্যিই অপূর্ব। প্রতিবছর কাশফুল ফোটে, আর আমরা অপেক্ষা করি এই সময়টার জন্য।
দর্শনার্থীদের মতে, স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও জেলার বাইরে থেকেও অনেকে এখানে আসেন ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য। গ্রামীণ পরিবেশ ও সূর্যাস্তের সময় কাশফুলের বাগান যেন এক স্বর্গীয় দৃশ্যের সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই চরাঞ্চলগুলো পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুর রহমান শামীম বলেন, ধরলা নদীর পশ্চিমপারে শত একর জমিতে কাশফুল ফুটেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসে। এটি পর্যটনের জন্য বড় সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাশফুল পরিবেশবান্ধব একটি উদ্ভিদ। দেশে ও বিদেশে এর বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনায় এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো