প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৩৯ AM

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ফল প্রকাশের দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে একটি রাজনৈতিক ইস্যু জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ঘিরে। জামায়াতে ইসলামীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ভিত্তিক আন্দোলনকে “সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা” বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াত।
রোববার (১৯ অক্টোবর) জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “দায়িত্বশীল জায়গা থেকে নাহিদ ইসলামের এ ধরনের মন্তব্য অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য। পিআর নিয়ে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট এবং এটি কোনো প্রতারণা নয়, বরং গঠনমূলক সংস্কারের অংশ।”
জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “রাজনীতিতে একে অপরকে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যখন আদর্শগত অবস্থান হারিয়ে ফেলে, তখন তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আমাদের প্রত্যাশা, এনসিপির মতো দলগুলো ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা করবে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করবে।”
রোববার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, “জামায়াতের তথাকথিত পিআর আন্দোলন ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এই আন্দোলন গঠিত হয়েছিল ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারপ্রক্রিয়াকে ভুল পথে পরিচালনা এবং জনগণের অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংলাপকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে।”
নাহিদ আরও লেখেন, “জামায়াত ও তার মিত্ররা পিআর ইস্যুকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা কখনোই গঠনমূলক কোনো প্রস্তাব দেয়নি, সংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেনি বা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “জামায়াতের ‘সংস্কারের’ পক্ষে অবস্থান ছিল আদর্শগত নয়, বরং এটি ছিল রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ সংস্কারের ছদ্মবেশে ষড়যন্ত্র। আজ জনগণ তা বুঝতে পেরেছে এবং আর প্রতারিত হবে না।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে