
সংগৃহীত ছবি
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার কেশবপুর থেকে বালুঘাটা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও প্রকাশ্য দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জামায়াতের অনুসারী উপজেলা প্রকৌশলী ও জামায়াত নেতা পরিচয়ের ঠিকাদার মো. সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশেই এ অনিয়ম চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত করলেও তিনি মূলত একজন ঠিকাদার ব্যবসায়ী এবং পাবনা পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একাধিক সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন এবং মানহীন কাজের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সড়কটিতে নতুন খোয়া বা মানসম্মত ইট ব্যবহার করা হয়নি। পুরনো ভাঙা ইট, রাবিশ ও পোড়া মবিল দিয়ে নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই রাস্তা হাত দিলেই ভেঙে যাচ্ছে। সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, অথচ উন্নয়ন নেই, এটা এক ধরনের প্রহসন।
আরেকজন সিদ্দিক হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করলেই উপরের লোকদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, সিরাজুল আগেও নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করেছে। এবারও একই অবস্থা। উপজেলা প্রকৌশলী আর ঠিকাদারের যোগসাজশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী বাকিবিল্লাহ ঘুষের বিনিময়ে মানহীন কাজকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাবিশ ও ভাঙা ইট দিয়ে নির্মিত সড়ক টেকসই হয় না। বর্ষায় তা দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়ে, ফলে সরকারি অর্থের অপচয় ও জনভোগান্তি বৃদ্ধি পায়।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বাকিবিল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান। অপরদিকে, সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
স্থানীয়দের এককথায় দাবি, সিরাজুলের ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ও প্রকৌশলীর ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করতে হবে। যতদিন এই দুর্নীতি বন্ধ না হবে, ততদিন প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো