প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২৪ পিএম

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও এমনকি চিকিৎসকেরাও। জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ করতে না পারায় চিকিৎসা কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভবনের ভেতরে কোনো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কই সচল নেই। কেউ কল করতে চাইলে বা ফোন ধরতে চাইলে বাইরে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তা করতে হচ্ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে—বিশেষ করে গর্ভবতী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যা প্রকট।
বড়ইয়াকান্দি গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রীকে সিজারের জন্য ভর্তি করিয়েছি। ডাক্তার বলেছেন এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। কিন্তু হাসপাতালে বসে ফোনে নেটওয়ার্কই পাই না। বাইরে গিয়ে ফোন দিতে হয়, অথচ স্ত্রীকে একা রেখে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই এটা সমাধান করতে পারে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান জানান, নেটওয়ার্ক না থাকায় রোগীরা বাসায় ফিরে ফোনে পরামর্শ নিতে পারেন না। আমরা নিজেরাও অনেক সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়ি। বিশেষ করে পুরোনো ভবনের কিছু জায়গায় একেবারেই কোনো সিগন্যাল পাওয়া যায় না। বিষয়টি দীর্ঘদিনের হলেও এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা খুবই দুঃখজনক। আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিচ্ছি, যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল ভবনের আশপাশে নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন বা বিদ্যমান টাওয়ারগুলোর সিগন্যাল বৃদ্ধি করলে এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর