প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:১১ AM আপডেট: ১৮.১০.২০২৫ ৬:১৫ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যার নয় দিন পর সেই জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘটনার মূলহোতা নিহত মীমের ফুফাতো ভাই প্রবাস ফেরত পারভেজকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত সাত ভরি স্বর্ণালংকারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকার তুরাগ থানার মনিরের গ্যারেজ এলাকা থেকে পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন জানান, টাকার অভাব থেকেই পারভেজ এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তিনি দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে এনজিও ঋণ ও ব্যাংক লেনদেনের চাপে পড়ে আর্থিক সংকটে ছিলেন।
এই আর্থিক টানাপোড়েন থেকেই মামার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি। ৯ অক্টোবর বিকেলে চাকু হাতে নিয়ে মিজান মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন পারভেজ। প্রথমে মামাতো বোন মীমের সঙ্গে দ্বিতীয় তলায় কথাকাটাকাটি শুরু হলে, চিৎকার ঠেকাতে সে মীমকে উপর্যুপরি চাকু আঘাতে হত্যা করে। পরে নিচে থাকা মামি জুলেখাকে ডেকে উপরে এনে মাথায় ও গলায় আঘাত করে হত্যা করে পারভেজ।
হত্যার পর ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় সে। প্রথমে লক্ষ্মীপুরে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং স্থানীয় দুটি দোকানে প্রায় এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি করে। পরে বাকি ছয় ভরি স্বর্ণ নিয়ে ঢাকায় গেলে পুলিশ তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মামলার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর রামগঞ্জের উত্তর চন্ডিপুর এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মিজানুর রহমানের বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী জুলেখা বেগম ও কলেজছাত্রী কন্যা মীমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। রাতে মিজান বাসায় ফিরে মা-মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
মীম রামগঞ্জ মডেল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ