প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৫ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২৫ ৭:০২ PM

ভারতের মুম্বাইয়ে মানবপাচার ও জাল কাগজপত্রে বসবাসের অভিযোগে এক বাংলাদেশি ট্রান্সজেন্ডার নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘গুরু মা’ নামে পরিচিত এই নারী অন্তত ২০০ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম বাবু আয়ান খান ওরফে জ্যোতি, যিনি নিজেকে ‘গুরু মা’ নামে পরিচিত করতেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড ব্যবহার করে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, জ্যোতি মুম্বাইয়ে ট্রান্সজেন্ডারদের আধ্যাত্মিক নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার প্রায় ৩০০ অনুসারী রয়েছে। পুলিশের ধারণা, পাচারের শিকার মানুষের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে আরও বাড়তে পারে।
পুলিশ জানায়, ‘গুরু মা’-র নেতৃত্বে পরিচালিত পাচারচক্র বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করাতো। এরপর তাদের কলকাতায় কয়েকদিন রেখে ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও স্কুল ছাড়পত্র তৈরি করা হতো। পরে তাদের মুম্বাইয়ে এনে শিবাজি নগর এলাকার ভাড়া বাড়িতে রাখা হতো। প্রতিটি ঘরে ৩ থেকে ৪ জন করে থাকতেন এবং ভাড়া দিতে হতো মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার রুপি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জ্যোতি মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আওতাধীন সরকারি ফ্ল্যাট ও বস্তি অবৈধভাবে দখল করে ভাড়া দিতেন। তিনি অন্তত ২০০টিরও বেশি বাড়ি দখল করে লাখ লাখ রুপি আয় করেছেন।
এছাড়া, জোরপূর্বক পাচারের শিকার কিছু মানুষকে যৌনকর্মে বাধ্য করতেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে