
সংগৃহীত ছবি
গাজা যুদ্ধে অবসান ঘটাতে সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামাস নিরস্ত্র না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই 'সহিংসভাবে' ব্যবস্থা নেবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা যায়, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “হামাস যদি অস্ত্র জমা না দেয়, তবে আমরাই তাদের নিরস্ত্র করব। সেটা দ্রুত এবং প্রয়োজনে সহিংস উপায়ে হবে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, এই প্রক্রিয়াটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া উচিত। গাজায় শান্তিচুক্তির প্রথম ধাপ কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো হামাস কবে গাজা ছাড়বে এবং কীভাবে নিরস্ত্র হবে।
সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা হামাস নেতাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। এতে অংশ নেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভেন উইটকফ। বৈঠকে হামাসকে আশ্বস্ত করা হয় যে তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ইসরায়েলকে পুনরায় হামলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, এটি ছিল হোয়াইট হাউস ও হামাসের মধ্যে প্রথম প্রত্যক্ষ বৈঠক। এই আলোচনা চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
এদিকে, হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে আটজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়। তাদের ‘ইসরায়েলি সহযোগী’ বলে দাবি করেছে হামাস। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুদ্ধবিরতির পর হামাস গাজার অভ্যন্তরে ‘অপরাধী চক্র ও গোত্রভিত্তিক দল’ দমন অভিযানে নেমেছে।
মিসরে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে, যদিও কিছু দিক সময়ের সঙ্গে বাস্তবায়ন হবে। গাজা এখন পরিষ্কার করতে হবে।”
গাজা পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক। মাঠপর্যায়ে কাজ করা দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই এটি এগিয়ে নিতে হবে।”
হামাসকে স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সীমিত ভূমিকা দেয়ার সিদ্ধান্তে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও হামাস নতুন সংঘাতে জড়াবে কি না?
হোয়াইট হাউসের এক সূত্র জানায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা খুবই স্পষ্ট; চুক্তি কার্যকর হবে, হামাস নিরস্ত্র হবে এবং কেউ যদি বাধা দেয়, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”