হেমন্তের কুয়াশাঝরা ভোর। শিরশির করে অনুভূত হচ্ছে শীতের পরশ। ঘাসের ডগায় চিকচিক করছে শুভ্র শিশির। গরমের তপ্ততাকে বর্ষার জলে শ্রান্ত হয়ে শীত হয়ে উঠে বাঙালিদের আরেক উৎসবের। দিগন্ত জুড়ে ক্ষেতে নবান্নের রং ছড়াতে শুরু করছে। মাকড়সার জালে কুয়াশার শিশিরের সৌন্দর্য বলে দিচ্ছে এসে গেছে শীত।
আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর-সকালে দেখা মিলছে কুয়াশা ঢাকা প্রকৃতি। শহর ও গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলোতে দেখা যায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায় বিভিন্ন যানবাহনগুলোতে। দিনের তাপমাত্রায় গরম অনুভূত হলেও রাত গভীরতার সাথে সাথে শীতল হয়ে উঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা গায়ে নিতে শুরু করেছেন পাতলা কাঁথা বা কম্বল।
জানা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটির নিকটস্থ পৃথিবীর দুই সুউচ্চ পর্বতমালা হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা। বরফের পাহাড়ও বলা হয় এ পর্বতযুগলকে। এ কারণে পাহাড়ি হিমেল হাওয়ায় শীতকালে নেমে যায় তাপমাত্রার পারদ। ফলে এ অঞ্চলে বছরের গরমের তুলনায় শীতের আমেজ বেশি থাকে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে এ অঞ্চলে শীতও পড়ে আগে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে বেশ কুয়াশা পড়তে দেখা গেছে। আশ্বিন মাস বিদায়ের পথে। কার্তিক পড়তেই শুরু করে শীতের আমেজ। এখন আর রাতে ফ্যান চালানো যাচ্ছে না। রাতে কাঁথা/পাতলা কম্বল জড়াতে হচ্ছে শরীরে। ভোর পর্যন্ত শীতের পরশ অনুভব হচ্ছে। তবে ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শীত আসতে দেরি আছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, অক্টোবরের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, অর্থাৎ বর্ষা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে। ফলে আবহাওয়ার ধরন বদলে গিয়ে ধীরে ধীরে নিতে শুরু করবে শীতের রূপ। আগামী তিনমাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি শীত মৌসুমে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কার্যালয় জানিয়েছে, গত দুইদিন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৩ ডিগ্রির মধ্যে। দিনদিন নিম্নমুখী তাপমাত্রায় উত্তরাঞ্চলের শীতের জেলা পঞ্চগড়ে শীত পড়তে শুরু করেছে।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, এ অঞ্চল শীতের জেলা হিসেবে পরিচিত। কয়েকদিন ধরেই ২৩ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা রেকর্ডের পর আজ সোমবার ৯টায় ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।