প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৫৭ পিএম

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পুকুর থেকে অনন্যা ইসলাম সুমি ওরফে জুথি (৩০) নামের এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়দের খবরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত জুথি কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারা তলা এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম বাচ্চুর মেয়ে। চার বছর আগে চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার নাহিদ নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেছিলেন তিনি।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের বড় পুকুরে এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, “হাসপাতালের পুকুরে এক নারীর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
নিহতের মা জহুরা খাতুন দাবি করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে প্রায়ই মারধর করতো তার স্বামী নাহিদ। সে একজন মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী। আমি তার ফাঁসি চাই।”
তিনি আরও জানান, জুথির সঙ্গে ১০ দিন আগে মোবাইলে কথা হয়েছিল। দুই মাস আগে তাদের আড়াই বছরের মেয়ে নন্দিতা নিখোঁজ হয়, যার খোঁজ এখনও মেলেনি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসময় একটি বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী নাহিদ এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে