
গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এতে গাজা উপত্যকায় অবরুদ্ধ ও মানবিক সংকটে থাকা লাখো মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী গাজার কিছু অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে।
এই ঘোষণার পরপরই হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা সিটির দিকে ফিরতে শুরু করে। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীশিবিরে বা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন।
গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জায়দা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আমার বাড়িটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। তবে আশপাশে আর কিছুই নেই। সব ধ্বংস হয়ে গেছে।’
আরেকজন গাজাবাসী মাহদি সাকলা বলেন, ‘আমাদের বাড়ি বলে কিছু নেই, শুধু ধ্বংসস্তূপ। তবুও আমরা বাড়ির জায়গায় ফিরতে পেরে খুশি। দুই বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস ২০ জন ইসরায়েলি জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে-যাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত।
এছাড়া, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাজায় পৌঁছাতে শুরু করেছে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক। এতে খাদ্য, পানি, ওষুধসহ জরুরি সহায়তা রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে গৃহহীন হয়ে পড়া লাখো মানুষের জন্য এই সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।
গাজার দক্ষিণে খান ইউনিস ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নুসিরাত ক্যাম্প থেকে কিছু ইসরায়েলি সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও ছিটেফোঁটা গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করতে এবং হামাসকে নিরস্ত্র করতে আমাদের সেনারা সেখানে থাকবে- প্রয়োজনে কঠোরভাবে লক্ষ্য অর্জন করব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলেছে।
হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খালিল আল-হায়া জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হচ্ছে বলে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছেন।
যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবে সব সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনো বন্দিমুক্তির তালিকা, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব কার হাতে যাবে, এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি।
এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানও চাপে পড়েছে।
সূত্র: রয়টাস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম