প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩১ AM

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার ওরাকজাই জেলায় সেনাবাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার তিন দিন পর শুরু হয়েছে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান। সেনা-পুলিশের যৌথ এই অভিযানে অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, গত ৮ অক্টোবর ওরাকজাই জেলায় সেনা টহলদলে হামলার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৯ অক্টোবর বৃহৎ নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনী কমপক্ষে ৩০ জন সন্ত্রাসীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে।
আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
গত ৮ অক্টোবর ওরাকজাই ও পার্শ্ববর্তী জেলা কুররমের সংযোগ সড়কে সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে বন্দুক ও বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুনাইদ তারিক, মেজর তায়াব রাহাতসহ মোট ১১ জন সেনা নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ ও সামরিক সূত্র জানায়, হামলার আগের দুই দিন (৭ ও ৮ অক্টোবর) ওরাকজাই এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে সেনারা ১৯ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছিল। অভিযানের পর ৮ অক্টোবর সকালে ফেরার পথে টিটিপির অতর্কিত হামলার শিকার হয় লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুনাইদ তারিক ও মেজর তায়াব রাহাতের নেতৃত্বাধীন সেনা দলটি।
টিটিপির সদস্যরা আগে থেকেই ওরাকজাই-কুররম সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে ছিল। সেনাদের গাড়িবহর কাছে আসতেই তারা গুলি চালায় এবং কিছুক্ষণ পর রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত করে। এতে বহরের দুটি গাড়ি ধ্বংস হয়।
এ ছাড়া ৯ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলাতেও সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। সেখানে আরও ৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া টিটিপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, আর বেলুচিস্তানে সক্রিয় রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
ইসলামাবাদভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে আগস্ট, এই তিন মাসে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত সহিংসতা বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। ওই সময় দেশটিতে ৩২৯টি সহিংস ঘটনার মধ্যে ৯০১ জন নিহত এবং ৫৯৯ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র : জিও নিউজ