
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহফুজ আলম বলেছেন, নতুন টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন নিয়ে যে হাহাকার দেখা যাচ্ছে, তা মূলত পুরনো বন্দোবস্ত এবং যারা নতুন মুখ আসতে চায় না, তাদের প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদের মিডিয়া বন্ধ করিনি, বরং নতুন মিডিয়া দেব।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যমে জুলাই ও তারপর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজ আলম এসব মন্তব্য করেন। এই সভা আয়োজন করা হয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে পিআইবির পাঁচটি প্রকাশনা—‘তারিখে জুলাই’, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবিতা’, ‘নিরীক্ষা: অভ্যুত্থান মিডিয়া বয়ান’, ‘যে সাংবাদিকদের হারিয়েছি’ এবং ‘ঘটনাপঞ্জি ২০২৪’—উৎসব উপলক্ষে।
সভায় মাহফুজ আলম স্বীকার করেন, ৬ বা ৮ আগস্ট সজীব ওয়াজেদ জয় এক ফেসবুক পোস্টে ‘মবোক্রেসি’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশকে ফের সেই ধারণার মধ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের ব্যর্থতা, যা আমি স্বীকার করছি। অনেক বিষয় আমরা সম্ভবত সময়মতো সামলাতে পারিনি।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা মিডিয়াতে হস্তক্ষেপ করি নি। মিডিয়ার স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে গত চার মাস ধরে কাজ করছি। তবে দেখা যাচ্ছে, দায়িত্বশীলতা খুব কম। বরং ‘সেট অব ন্যারেটিভস’ বারবার প্রচার করা হচ্ছে। আমাদের পিছনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যা ন্যারেটিভ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা কালে তৈরি হয়েছিল, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “শিকারি সাংবাদিকতা ও গত ১৫ বছরের গণমাধ্যম পরিবর্তন নিয়ে আমরা জাতিসংঘকে চিঠি লিখেছিলাম স্বাধীন তদন্তের জন্য। পরে জানানো হয় ইউনেসকোর সঙ্গে কথা বলতে। তারা মিডিয়ার জন্য কোড অব কনডাক্ট তৈরি করতে চেয়েছিল।”
মাহফুজ আলম আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে যারা ফ্যাসিবাদী আমলে গণমাধ্যমের মালিক বা সম্পাদক ছিলেন, তাদের অবশ্যই জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং দায়িত্ব স্বীকার করা উচিত। আমি বারবার ইঙ্গিতমূলক মন্তব্য করি, কারণ তথ্য উপদেষ্টা কিছু বললেই তা সংবাদে পরিণত হয়।”
উপদেষ্টা বলেন, “নতুন মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন মুখ, নতুন ন্যারেটিভ ও নতুন বক্তব্য আসবে। এতে বক্তব্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং চিন্তার বিরুদ্ধে চিন্তার লড়াই হবে। আমরা সহিংসতার পথে যাইনি, তাই এখানে শুধুই যুক্তি ও চিন্তার লড়াই। আমরা নিশ্চিত জয়ী হব।”
তিনি পিআইবিকে আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষ টেলিভিশন চ্যানেলের দিকে তাকিয়ে ছিল। “কিন্তু চ্যানেলগুলো ঠিকমতো প্রতিবেদন দেখায়নি। যারা মনে করে রাজনৈতিক দল ও ক্ষমতার অংশীদারের সঙ্গে মিশে লোপাট বা সুবিধা পাবে, তা সম্ভব নয়।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ