প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩৫ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে বৈজ্ঞানিক ও মানবিক উদ্যোগ বন্ধ্যাত্বকরণ (স্পে-নিউটার) ও টিকাদান কার্যক্রম। ক্যাম্পাসে সম্প্রতি কুকুরের সংখ্যা ও উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রাণীপ্রেমী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘স্নেহটেইল’-এর আয়োজনে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে বিশেষায়িত দল ‘ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশন’। আগামী ১৬ অক্টোবর দলটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কুকুরগুলোর বন্ধ্যাত্বকরণ অপারেশন শুরু করবে।
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। দুটি রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে একটি আগত দলের আবাসনের জন্য এবং অন্যটি পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার ইউনিট হিসেবে। অপারেশনের পর দুই দিন কুকুরগুলোর খাবার ও তত্ত্বাবধানের জন্য একজন নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
‘স্নেহটেইল’-এর প্রতিষ্ঠাতা তামান্না রহমান তন্নী বলেন, “বর্তমানে ক্যাম্পাসে ৬০ থেকে ৭০টি কুকুর রয়েছে। কেউ কেউ তাদের খাওয়ান, আবার কেউ কেউ আতঙ্কিত হন। তাই আমরা এমন একটি উদ্যোগ নিতে চেয়েছি যাতে মানুষ ও প্রাণী দুজনেই নিরাপদে থাকতে পারে। প্রাণী নিধনের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই সমস্যার মানবিক সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের সব কুকুর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বন্ধ্যাত্বকরণের পাশাপাশি প্রতিটি কুকুরকে র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। অপারেশনের পর প্রতিটি কুকুরের গলায় পরিচয় বেল্ট পরানো হবে এবং কানের একটি অংশ কেটে চিহ্নিত করা হবে, যাতে সহজে বোঝা যায় কুকুরটি নিরাপদ ও বন্ধ্যাত্বকৃত। এছাড়া তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিড়ালগুলোও র্যাবিস টিকার আওতায় আসবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীরা যে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। প্রশাসন এই উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এর ফলে ক্যাম্পাস আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও প্রাণবান হয়ে উঠবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে