
ফাইল ছবি
হাওরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন অবৈধ যানবাহনের দখলে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ধরনের রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, যা তাজা প্রাণ ঝরার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরে সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পথচারীসহ একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি। এ অঞ্চলের দুর্ঘটনার বড় অংশই সংঘটিত হয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইক সংঘর্ষে।
জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দখল করে নিয়েছে অনুমোদিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ যানবাহন। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলছে অবৈধ ট্রলি গাড়ি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নিষিদ্ধ পরিবহনের নিরাপদ স্টেশনও হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের সড়কগুলো।
বিআরটিএ সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলাে রেজিস্ট্রেশনকৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা ৪,৭২৩টি, থ্রি-হুইলার ২৫৭টি, মোটরসাইকেল ১০,৯৪২টি, জিপগাড়ি ৫৫টি, প্রাইভেটকার ৭টি, পিকআপ ভ্যান ৩৭টি, ট্রাক ৪টি, বড় বাস ২টি, মিনিবাস ২৩টি, মাইক্রোবাস ১৩টি এবং অ্যাম্বুলেন্স ১২টি। তবে বাস্তবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহনের সংখ্যা সরকারি হিসেবের কয়েকগুণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটো রিকসা বেবী-টেক্সী ও টেক্সীকার মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংগঠনের অডিট চলমান আছে। অডিট শেষ হলে সঠিক তথ্য দেওয়া যাবে। আনুমানিক ২,০০০ সিএনজি রয়েছে। বাকি সড়কের অবৈধ যানবাহনের তথ্য আমাদের জানা নেই।
সুনামগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ জানান, আমাদের আন্ডারে সড়কে ৫০০ বাস চলাচল করছে, যেগুলোর সবই রেজিস্ট্রেশনকৃত। কিন্তু সিএনজি চালিত অটোরিকশার বেশিরভাগই রেজিস্ট্রেশনবিহীন। এদের কারণে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সড়কে ফিটনেসবিহীন এবং অনুমোদনহীন যান চলাচলের কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পথচারী ও চালকসহ অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়ে খেসারত দিচ্ছে, তবুও অবৈধ যানবাহনের লাগাম টানা যাচ্ছে না।
নিরাপদ সড়ক চাই সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক মিলন বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ গাড়ির সংখ্যা খুবই বেড়েছে। অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যাই বেশি। ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি ও অবহেলা আছে, বিআরটিএ অফিসও দুর্নীতি করে অদক্ষদের লাইসেন্স দেয়। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা মোড়ে কার্যকর সাংকেতিক চিহ্ন নেই। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে।
সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. হানিফ জানান, সড়কে কোনো অবৈধ পরিবহন থাকবে না। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং সচেতনতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে চলেছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো