প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১:৫৯ পিএম

ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় নিস্তব্ধ হাতিয়ার মাছ ঘাট
ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ার মাছ ঘাটগুলো অস্বাভাবিক নীরবতায় ভরে গেছে। সাধারণত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলেদের হাকডাকে মুখর থাকে পাইতান ঘাট, বাংলা বাজার, কাজীর বাজার ও সূর্যমুখী ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাট। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকেই ঘাটগুলো শান্ত, এখন শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুত, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের শাস্তি হতে পারে।
সূর্যমুখী ঘাটের জেলে এমবি মায়ের দোয়া বোর্ডের জুয়েল মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ না ধরলেও আমরা জানি এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য দরকারি। মাছের সংখ্যা বাড়বে, তবে সংসার চালানো কিছুটা কঠিন হয়ে যায়।”
ঘাটের ব্যবসায়ী কাজল মাঝি বলেন, “সবাই সচেতন, এবং স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে।”
আবার রহমত উল্যা বলেন, “ঘাটে এখন কোনো কোলাহল নেই, শুধুই পরিষ্কার কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে আমরা চাই ইলিশের সংখ্যা বেড়ে ভবিষ্যতে সবাই লাভবান হোক।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান বলেন, “নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নৌপথ ও উপকূলে টহল অব্যাহত রয়েছে। সকলকে সহযোগিতা করতে হবে যাতে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হয়।”
স্থানীয় প্রশাসনও জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাতিয়ায় জেলেদের এই স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এখন একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।