প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৪৬ AM

ফাইল ছবি
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এছাড়া এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পাঠানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জোর করে পদত্যাগ করা অনেক শিক্ষক-কর্মচারী বর্তমানে বেতন–ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তাদের ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তাই অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেতন–ভাতা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করে বেতন–ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বেতন চালুর ক্ষেত্রে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারির নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জোরপূর্বক পদত্যাগের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। একই নির্দেশনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়নি। এর ফলে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন ছাড়া মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত তদন্ত শেষ করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহু শিক্ষককে জোর করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তখন থেকেই অনেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো