প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৪০ পিএম

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদেয়া এলাকায় এক পরিবারকে পাঁচ বছর ধরে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যরা হলেন এক নারী ও তাঁর দুই ছেলে। প্রতিবেশীরা বলছেন, তারা বছরের পর বছর ধরে ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছেন, বাইরে আসেন না কারও সঙ্গে দেখা করতেও।
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ওই বাড়ির তিনতলায় মনিরুল নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকছেন। করোনার সময় থেকেই পরিবারের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। বাড়ির দারোয়ানের ভাষায়, দুই থেকে তিন মাসে একবার মাত্র ঘর থেকে বের হন তারা। ১৬ ও ২১ বছর বয়সী দুই ছেলেই দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পড়াশোনা বন্ধ রেখেছে।
মনিরুল নিয়মিত বাজার করে দরজার সামনে রেখে যান, ছেলেরা ভেতর থেকে নিয়ে নেয়। তবে কেউ ঘরের বাইরে পা রাখে না। বাড়িওয়ালা জানিয়েছেন, ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ না করায় নোটিশ দেওয়ার পরও তারা বাসা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের সহায়তায় দরজায় কড়া নাড়লেও মা ও ছেলেরা তা খোলেননি। সাংবাদিকরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে ভেতর থেকে শুধু কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
ভেতর থেকে ওই নারী দাবি করেন, তাঁর স্বামী বাইরে গেলেই হত্যার আশঙ্কা থাকে। তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন। এক ছেলে ভেতর থেকে বলেন, “আমি এখনো স্টুডেন্ট, কিন্তু আমাকে পড়তেও দিচ্ছে না। আমাকে আটকে রেখেছে।” তবে মনিরুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর স্ত্রী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সদস্যরা সম্ভবত গভীর মানসিক জটিলতায় (যেমন সিজোফ্রেনিয়া বা ডিলিউশনাল ডিসঅর্ডার) আক্রান্ত। এতে রোগীরা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেন, সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ