প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১২ পিএম

যশোরের নওয়াড়াপাড়া পৌরসভার আট নং ওয়ার্ডের গাজীপুর এলাকায় প্রতিদিন রাতজুড়ে বড় আকারের জুয়ার আসর বসছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, ওই স্থানে সীমাহীন আকারে টাকা হাতবদল হচ্ছে এবং পুলিশের নির্দিষ্ট সহায়তায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর তরুণ সংঘের পাশের একটি বাগানে রাত আটটা থেকে ভোর পর্যন্ত জুয়ার আসর বসে। জুয়ার আড্ডায় অংশ নিতে দূরের কয়েকটি এলাকার (খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মণিরামপুর, ডুমরিয়া, নড়াইল) জন্য আট থেকে দেড় দশটি গাড়ি রিজার্ভ রাখা হয়—জুয়াড়িদের আনা-নেওয়ার জন্য এসব মাইক্রোবাস ব্যবহার করা হয় বলে বলা হচ্ছে। বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এতে মাদক, চোরাকারবারি ও সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জটিলতা তৈরি করেছে—বিএনপির দুই গ্রুপ ওই জুয়ার আসরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। একটি পক্ষ অভিযোগ করছে, জুয়াড়ি ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিএনপির প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে; আর অপর পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে করেছে। এই দ্বন্দ্ব থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা ও টু-আইসিদের জুয়ার উপরি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। কিন্তু আইসি সনজিৎ কুমার বলেন তিনি ছুটিতে ছিলেন; অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জুয়ার আসর দেখে উদ্ধার করবো। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছে এবং অঞ্চল থেকে অনাচার বন্ধ করা হবে—তবে তারা নির্দিষ্ট নেপথ্য নাম বা ঘটনাস্থল সংক্রান্ত অন্যান্য দাবি অস্বীকার করেছেন বা পরে নিশ্চিত করবেন।
স্থানীয়রা পুলিশ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চায়। শফিকুল ইসলাম, আশরাফ গাজী ও শহিদুল গাজীসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জুয়ার আসরের কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলে উপদ্রব ও মারধরের শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন একটি গোপন অনুসন্ধান করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে এবং অভিযোগের প্রতিকার মিলবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ